গ্রামের অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের মূল অঙ্গীকার
মতোয়াল্লা কল্যাণ পরিষদ সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আর্তমানবতার সেবায় নিবেদিত একটি নির্ভরযোগ্য সংগঠন। গত তিন বছর ধরে বাংলাদেশের দুর্গম চরাঞ্চল, বন্যাবিধ্বস্ত গ্রাম ও পিছিয়ে পড়া জনপদে আমরা পৌঁছে দিচ্ছি শিক্ষার আলো, জরুরি খাদ্য, সুপেয় নিরাপদ পানি, চিকিৎসা সেবা ও পুনর্বাসন সহায়তা।
কোনো ব্যক্তিস্বার্থ বা রাজনৈতিক অভিসন্ধি নয়—আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য মহান স্রষ্টার সন্তুষ্টি ও বাংলাদেশের অবহেলিত, ভাগ্যবঞ্চিত গ্রামবাসীর জীবনমান উন্নয়ন।
৩ বছরের আত্মত্যাগ ও মাঠপর্যায়ের নিঃস্বার্থ বাস্তবতা
২০২৩ সালের এক তীব্র শীতের রাতে কুড়িগ্রামের তিস্তা চরে মাত্র ৩০ জন শীতার্ত মানুষকে কম্বল দেওয়ার মাধ্যমে আমাদের এই পবিত্র যাত্রা শুরু হয়েছিল। আজ ৩ বছর পর মতোয়াল্লা কল্যাণ পরিষদ হাজার হাজার অসহায় মানুষের কান্না থামানোর বিশ্বস্ত আশ্রয়স্থল।
কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই
স্থানীয় আলেম, সুধীজন ও প্রশাসনের পূর্ণ সমন্বয়
প্রত্যেক পাই-পয়সার উন্মুক্ত ডিজিটাল অডিট
শতভাগ বিশ্বস্ত
স্বেচ্ছাসেবক চালিত প্ল্যাটফর্ম
নিরপেক্ষতা ও ইনসাফ
সাহায্য পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা, গোষ্ঠীগত পরিচয় বা স্বজনপ্রীতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কেবল সত্যিকার হকদার ও দুস্থ মানুষই আমাদের সহায়তা পান।
মাজার ও মরমী ঐতিহ্য সংরক্ষণ
ঐতিহাসিক মাজার, সুফি ঐতিহ্য ও গ্রামীণ আধ্যাত্মিক কেন্দ্রের সংলগ্ন দরিদ্র ভক্ত ও প্রান্তিক মানুষের মানবিক কল্যাণ ও আত্মিক প্রশান্তি নিশ্চিতকরণ।
স্বাবলম্বীকরণ ও টেকসই পরিবর্তন
আমরা মানুষকে কেবল সাময়িক ত্রাণ দেই না; বরং সেলাই মেশিন, ভ্যানগাড়ি ও ক্ষুদ্র ব্যবসার মূলধন দিয়ে তাদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করি।
উন্মুক্ত আর্থিক জবাবদিহিতা
অনুদানের প্রতিটি টাকার স্বচ্ছ হিসাব রাখা হয়। দাতা জানতে পারেন তার অনুদান কোথায়, কার উপকারে এবং কীভাবে ব্যয়িত হয়েছে।
আমাদের লক্ষ্য ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা
আমরা বিশ্বাস করি, একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে গ্রামীণ সমাজকে বাদ দিয়ে এগোনো সম্ভব নয়। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ৫০টি প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে আধুনিক টেকসই শিক্ষাকেন্দ্র ও স্থায়ী আর্সেনিকমুক্ত ওয়াটার প্ল্যান্ট স্থাপন করাই আমাদের দীর্ঘমেয়াদী স্বপ্ন।
ইতিহাস ও অর্জন
৩ বছরের অবিরাম সেবা ও আত্মত্যাগের স্বর্ণোজ্জ্বল পথরেখা
ছোট পরিসরে শুরু হওয়া একটি মানবিক আকাঙ্ক্ষা আজ কীভাবে সহস্র জীবনের আশার প্রদীপে রূপ নিয়েছে—তার ধারাবাহিক বিবরণ।
Year 1: 2023 — সূচনা ও জরুরি সাড়াদান
উত্তরবঙ্গ ও উত্তরাঞ্চলের চরাঞ্চল
কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার চরাঞ্চলে প্রথম ত্রাণ ও শীতবস্ত্র কার্যক্রম
২০২৩ সালে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার অববাহিকায় নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারানো ২০০ পরিবারের কাছে শুকনো খাবার ও জরুরি ওষুধ পৌঁছানোর মাধ্যমে আমাদের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়। একই বছর তীব্র শীতে উত্তরাঞ্চলের পাঁচটি গ্রামে ১,২০০ কম্বল ও গরম কাপড় বিতরণ করা হয়।
১,২০০+ কম্বল বিতরণ
৩৫০+ পরিবারে খাদ্য সহায়তা
২টি ভ্রাম্যমাণ ফ্রি ক্লিনিক
৪৫ জন সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবক
Year 2: 2024 — শিক্ষা প্রসার ও সুপেয় পানির বিপ্লব
সুনামগঞ্জ, বগুড়া ও নেত্রকোণা
'আলোর পাঠশালা' উদ্বোধন ও ৩৫টি গভীর নলকূপ স্থাপন
দ্বিতীয় বছরে আমরা স্থায়ী ও টেকসই সামাজিক পরিবর্তনের দিকে নজর দিই। প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চল ও চরে যেখানে মানুষ নদীর ঘোলা পানি পান করত, সেখানে ৩৫টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি ৫০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশুর জন্য বই, খাতা, স্কুল ড্রেস ও উপবৃত্তি চালু করা হয়।
৩৫টি গভীর নলকূপ স্থাপন
৫০০+ শিশুর শিক্ষাবৃত্তি
বন্যায় উদ্ধার ও ত্রাণ ক্যাম্প
১২০ জন দক্ষ ভলান্টিয়ার
Year 3: 2025 — বিধবা সহায়তা, চক্ষু ক্যাম্প ও স্বাবলম্বীকরণ
নোয়াখালী, সিরাজগঞ্জ ও রংপুর
তৃতীয় বর্ষে এসে আমরা ১৫০ জন অসহায় বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন ও প্রাথমিক কাঁচামাল দিয়ে পুনর্বাসিত করি। পাশাপাশি বিশেষ চক্ষু শিবিরের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ২০০ জন বয়োবৃদ্ধ মানুষের চোখের ছানি অপারেশন ও চশমা বিতরণ সম্পন্ন হয়।
১৫০টি সেলাই মেশিন বিতরণ
২০০ চোখের ছানি অপারেশন
৫০টি গৃহহীন ঘর মেরামত
১০০% শরীয়াহ যাকাত বন্টন
Year 4: 2026 — চলমান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা
বর্তমান চলমান কার্যক্রম
ডিজিটাল পোর্টাল, জরুরি ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স ও ১০০টি মডেল ভিলেজ প্রকল্প
চলতি ২০২৬ সালে মতোয়াল্লী কল্যাণ পরিষদ দেশের প্রত্যন্ত নদীমাতৃক এলাকায় গর্ভবতী মা ও মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নেয়ার জন্য একটি স্পিডবোট/নৌ-অ্যাম্বুলেন্স ও স্থল অ্যাম্বুলেন্স সেবা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে। দাতাদের প্রতিটি দানের রসিদ ও ট্র্যাকিং সহজতর করতে এই স্বয়ংসম্পূর্ণ আধুনিক পোর্টাল প্রকাশ করা হয়েছে।
২৪/৭ ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা
লাইভ ডোনেশন ট্র্যাকার
১০০ মডেল ভিলেজ টার্গেট
প্রবাসী সহায়তা নেটওয়ার্ক
আমাদের মূল প্রকল্পসমূহ
অসহায় মানুষের জীবনে হাসি ফেরাতে আমাদের উদ্যোগ
শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য, সুপেয় পানি থেকে জরুরি খাদ্য—প্রান্তিক মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমাদের সমন্বিত সেবা।
শিক্ষা প্রকল্প
সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও এতিমদের শিক্ষা সহায়তা
গ্রামের যেসকল শিশু দারিদ্র্যের কারণে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে কাজে নামতে বাধ্য হয়, তাদের বিনামূল্যে খাতা-কলম, স্কুলব্যাগ, ইউনিফর্ম ও প্রতি মাসে আর্থিক বৃত্তি প্রদান করা হয়।
১,২৫০+ শিক্ষার্থীকে মাসিক বৃত্তি
৩টি প্রত্যন্ত চরে সান্ধ্যকালীন পাঠশালা
বার্ষিক কোরআন ও ধর্মীয় নৈতিক শিক্ষা
প্রতি শিশুর মাসিক খরচ
৳ ১,২০০ / মাস
সুপেয় পানি
গভীর নলকূপ ও আর্সেনিকমুক্ত ফিল্টার স্থাপন
উপকূলীয় ও পাহাড়ি অঞ্চলে লবণাক্ততা ও চরাঞ্চলে আর্সেনিকের কারণে বিশুদ্ধ পানির হাহাকার দীর্ঘদিনের। আমরা ৬০০ থেকে ৯০০ ফুট গভীর নলকূপ বসিয়ে সম্পূর্ণ নিরাপদ পানি সরবরাহ করছি।
৯২টি গভীর নলকূপ সফলভাবে স্থাপিত
গ্রামে পানিবাহিত রোগ ৮০% হ্রাস
স্থানীয় কমিটিকে রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণ
একটি সম্পূর্ণ গভীর নলকূপ
৳ ৩৫,০০০ - ৫৫,০০০
স্বাস্থ্য সুরক্ষা
ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও চক্ষু ছানি অপারেশন
বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সমন্বয়ে গ্রামে গ্রামে বিনামূল্যে ডায়াবেটিস পরীক্ষা, প্রসূতি সেবা, সাধারণ রোগের চিকিৎসা, ওষুধ বিতরণ এবং প্রবীণদের চোখের ছানি অপারেশন পরিচালনা করা হয়।
১৮,০০০+ রোগীকে বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান
২০০+ সফল ছানি অপারেশন সম্পন্ন
মাতৃত্বকালীন পুষ্টি কিট বিতরণ
একটি ছানি অপারেশন খরচ
৳ ৫,০০০ / চোখ
আত্মকর্মসংস্থান
বিধবা ও অসহায় মায়েদের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্প
সাহায্যের ওপর আজীবন নির্ভরশীল না রেখে স্বামীহারা বিধবা, প্রতিবন্ধী ও অতিদরিদ্র পরিবারকে সেলাই মেশিন, দুধের গাভী, বা ক্ষুদ্র দোকানের মালামাল কিনে দিয়ে স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা করা হয়।
১৫০+ নারীকে সেলাই মেশিন ও প্রশিক্ষণ
৬০টি পরিবারে ভ্যানগাড়ি ও ক্ষুদ্র ব্যবসা
ঘরে বসেই সম্মানের সাথে উপার্জনের সুযোগ
একটি নতুন সেলাই মেশিন
৳ ১২,৫০০
জরুরি ত্রাণ
শীতবস্ত্র বিতরণ ও বন্যা-দুর্যোগকালীন খাদ্য ত্রাণ
হেমন্ত ও শীত মৌসুমে উত্তরের হিমশীতল বাতাসে যখন কাঁপন ধরে, অথবা বর্ষায় প্লাবিত হয়ে যখন চুলোয় আগুন জ্বলে না—তখন আমাদের ভলান্টিয়াররা কাঁধে করে চাল, ডাল, তেল, বিশুদ্ধ পানি ও কম্বল নিয়ে ছুটে যান।
৩,৮০০+ পরিবারে জরুরি ফুড বাস্কেট
উন্নতমানের ভারী কম্বল ও জ্যাকেট বিতরণ
পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও স্যালাইন
১টি পরিবারে পূর্ণাঙ্গ ফুড প্যাকেজ
৳ ১,৫০০
মাজার ও মানবসেবা
মাজার প্রাঙ্গণে লঙ্গরখানা ও অসহায় মুসাফির সেবা
ঐতিহাসিক মাজার ও ধর্মীয় শান্তি কেন্দ্রগুলোতে আগত অন্ধ, প্রতিবন্ধী ও নিঃস্ব ভক্ত-মুসাফিরদের নিয়মিত গরম খাবার বিতরণ, শীতের রাতে নিরাপদ আশ্রয় ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ রক্ষা করা হয়।
দৈনিক ১০০+ ভুখা মানুষের আহারের সংস্থান
সুফি দর্শনের মূলমন্ত্র—সকল সৃষ্টির সেবা
শান্তিময় ও পরিচ্ছন্ন গ্রামীণ পরিবেশ সংরক্ষণ
১ দিনের লঙ্গরখানা স্পন্সর
৳ ৫,০০০
মাঠপর্যায়ের সত্য রিপোর্ট ও জীবন্ত গল্প
ক্যানভাসে রক্ত-ঘামের ৩ বছর: প্রতিটি দীর্ঘ প্রতিবেদনের পেছনের কথা
আমাদের কাজ কেবল ফেসবুকে ছবি তোলা নয়; প্রতিটি সহায়তা একটি পরিবারের করুণ বাস্তবতাকে চিরতরে পাল্টে দেওয়ার লড়াই। পড়ুন আমাদের সরেজমিন বিস্তারিত ফিল্ড রিপোর্ট ও কেস স্টাডি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক
•
প্রকাশের তারিখ: ২২ অক্টোবর ২০২৬
মোতাওয়াল্লী কল্যাণ পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক: মোতাওয়াল্লী কল্যাণ পরিষদের একটি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সংগঠনের কার্যক্রম, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় উপস্থিত সদস্যরা সংগঠনের উন্নয়ন ও কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। এ সময় পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় মোতাওয়াল্লী কল্যাণ পরিষদের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলা• ফিল্ড রিপোর্ট: মার্চ ২০২৪ – আগস্ট ২০২৪• ৫ মিনিট পড়ার সময়
১. ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে নিঃস্ব ২০০ পরিবারের পুনর্বাসন: সাহেবের আলগা চরে জীবনের নতুন ভোর
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী সাহেবের আলগা ইউনিয়নটি মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় তিন ঘণ্টার বিপজ্জনক নৌপথ। প্রতি বছর বর্ষা এলেই ব্রহ্মপুত্র তার রুদ্রমূর্তি ধারণ করে। ২০২৪ সালের জুনে যখন পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে নদী ফুঁসে উঠল, মাত্র ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে সাহেবের আলগার দক্ষিণ পাড়ের ৮৫টি বসতভিটা চোখের পলকে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। মানুষের চোখের সামনে তাদের শত বছরের স্মৃতি, ধানের গোলা ও সন্তানের আশ্রয়টুকু চিরতরে হারিয়ে যায়।
খবর পেয়ে মতোয়াল্লা কল্যাণ পরিষদ-এর ৯ সদস্যের একটি স্বেচ্ছাসেবী দল ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিনের নৌকায় শুকনো চিঁড়া, গুড়, খাবার স্যালাইন, ওয়াটার পিউরিফায়ার ট্যাবলেট এবং ফার্স্ট এইড বক্স নিয়ে প্রথম চরে পৌঁছে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, খোলা আকাশের নিচে ভিজে একাকার হয়ে শিশুদের বুকে জড়িয়ে বসে আছেন মায়েরা। স্থানীয় প্রশাসনের বরাদ্দ পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় চার দিন সময় লাগার সম্ভাবনা ছিল। সেই জরুরি মুহূর্তে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ২০০ পরিবারের জন্য ৭ দিনের পূর্ণাঙ্গ রেশন (১০ কেজি চাল, ২ কেজি মসুর ডাল, ১ লিটার সরিষার তেল, লবণ, মোমবাতি ও সাবান) বিতরণ করি।
"বাপজান, নদীর ভাঙনে ঘরের খুঁটিডা পর্যন্ত খুলবার পাই নাই। তিনটা ছাওয়া নিয়া ভেলার উপর উপাস আছিলাম। তোমরা যে নাও (নৌকা) নিয়া ভাত-ডাল দিয়া গেলা, মনে হইলো স্বয়ং খোদা তোমাদের পাঠাইছে।" — মোসাম্মৎ আলেয়া বেগম (৫৫), সাহেবের আলগা চর।
পানি নেমে যাওয়ার পর আগস্ট মাসে আমরা ওই চরের সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়া ২০টি পরিবারকে নতুন করে ভিটেমাটি উঁচু করে টিনের চালা ও বাঁশের বেড়া তৈরির জন্য প্রতি পরিবারকে নগদ ১২,০০০ টাকা করে গৃহনির্মাণ অনুদান প্রদান করি। এছাড়া পানিবাহিত ডায়রিয়া ও চর্মরোগের প্রকোপ ঠেকাতে ৩টি উচ্চ ক্ষমতার গভীর টিউবওয়েল এমন স্থানে স্থাপন করা হয়, যাতে আগামী বন্যায়ও নলকূপের মাথা পানির নিচে না ডুবে।
মৌলভীবাজার ও সিলেট অঞ্চল• শিক্ষা কেস স্টাডি: জানুয়ারি ২০২৪ – বর্তমান• ৪ মিনিট পড়ার সময়
২. বইয়ের পাতায় স্বপ্নের ডানা: চা-শ্রমিক কন্যা সুমি ও 'আলোর দিশারী' শিক্ষাবৃত্তি
দৈনিক মাত্র ১৭৮ টাকা মজুরিতে চা বাগানে ১২ ঘণ্টা হাড়ভাঙা খাটুনি দেওয়া পিতা হরেন্দ্র রবিদাসের তিন সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে সুমি। ছোটবেলা থেকেই সুমির স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে গ্রামের মানুষের রোগমুক্তির জন্য ডাক্তার হওয়া। কিন্তু ২০২৪ সালে যখন সে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫.০০ পেয়ে উত্তীর্ণ হলো, তখন আনন্দের চেয়ে হরেন্দ্র রবিদাসের পরিবারে নেমে এলো একরাশ অন্ধকার। কলেজে ভর্তি, ফরম পূরণ, টেস্ট পেপার ও প্রতিদিনের যাতায়াত ভাড়ার টাকা যোগাড় করা এই দিনমজুর পিতার পক্ষে সম্ভব ছিল না।
খবর পেয়ে মতোয়াল্লা কল্যাণ পরিষদ তাৎক্ষণিকভাবে সুমির একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সম্পূর্ণ পড়াশোনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। আমাদের 'আলোর দিশারী' প্রকল্পের আওতায় সুমিকে মাসিক ২,৫০০ টাকা শিক্ষা উপবৃত্তি দেওয়া হয়। এছাড়া তাকে একটি ডিজিটাল ল্যাপটপ উপহার দেওয়া হয় যেন সে অনলাইনে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক প্রস্তুতি নিতে পারে।
"মতোয়াল্লা কল্যাণ পরিষদ পাশে না দাঁড়ালে আজ আমাকে পড়া ছেড়ে গার্মেন্টসে কাজে ঢুকতে হতো। আমার স্বপ্ন এখন অনেক বড়। আমি চিকিৎসক হয়ে এই চরের গরিব মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা করব।" — সুমি রবিদাস।
শুধু সুমি একাই নয়, বর্তমানে সারা বাংলাদেশে আমাদের এই প্রকল্পের অধীনে ১,২৫০ জন মেধাবী কিন্তু এতিম ও চরম দরিদ্র শিক্ষার্থী প্রতি মাসে নিয়মিত শিক্ষা সহায়তা পাচ্ছে।
প্রকল্পের আওতা: ১,২৫০ জন সক্রিয় শিক্ষার্থী (প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়)
নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় চরাঞ্চল• ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন রিপোর্ট: ২০২৩-২০২৫• ৫ মিনিট পড়ার সময়
৩. এক ফোঁটা মিঠা পানির খোঁজে মাইলের পর মাইল হাঁটা: ৯২টি গভীর নলকূপে বাঁচল ৫০ হাজার প্রাণ
উপকূলীয় এলাকার নদী ও খালগুলো লবণাক্ত পানিতে ভরা। ভূগর্ভস্থ পানির প্রথম ৩০০ ফুট স্তরেও তীব্র আর্সেনিক ও লোহার গন্ধ। হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপ ও চর ঈশ্বর ইউনিয়নের নারীদের প্রতিদিন ভোর ৪টায় ঘুম থেকে উঠে কলস কাঁখে নিয়ে ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে হতো একমাত্র মিষ্টি পানির পুকুর কিংবা বহু দূরের একটি অগভীর সরকারি টিউবওয়েলে।
মতোয়াল্লা কল্যাণ পরিষদ এই সংকটকে জাতীয় গুরুত্ব দিয়ে গ্রহণ করে। বিশেষজ্ঞ ভূতাত্ত্বিকদের পরামর্শ অনুযায়ী ৮০০ থেকে ৯৫০ ফুট গভীরে বালুময় স্তর চিহ্নিত করে পাইপ বসানো হয়। প্রবাসী বাংলাদেশি ও স্থানীয় দাতাদের সহযোগিতায় আমরা এক এক করে উপকূলীয় চরে মোট ৯২টি গভীর নলকূপ স্থাপন করেছি। প্রতিটি নলকূপের গোড়ায় পাকা প্ল্যাটফর্ম ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।
"আগে সারা বছর পেটের অসুখ, ডায়রিয়া আর আমাশা লেগেই থাকত। এই কলটা হওয়ার পর থেকে গ্রামের বউ-ঝিদের কষ্ট দূর হয়েছে, রোগবালাইও আর নাই।" — হাজি আব্দুল বাতেন (৭০), স্থানীয় মুরব্বি।
পরবর্তী লক্ষ্য: ২০২৬ সালের মধ্যে আরও ৫০টি প্রত্যন্ত চরে ওয়াটার পয়েন্ট স্থাপন
বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও যমুনার চর• স্বাবলম্বীকরণ রিপোর্ট: অক্টোবর ২০২৪• ৪ মিনিট পড়ার সময়
৪. ভিক্ষা নয়, সম্মানের জীবিকা: বিধবা রহিমা বেগমের স্বাবলম্বী হওয়ার অনুপ্রেরণাদায়ী গল্প
পাঁচ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর তিন নাবালক সন্তানকে নিয়ে অকূল পাথারে পড়েছিলেন সারিয়াকান্দির রহিমা বেগম (৩৮)। স্বামীর রেখে যাওয়া কোনো জমি ছিল না, ছিল না কোনো সঞ্চয়। বাধ্য হয়ে মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ ও কখনো কখনো হাত পেতে খাবার চাইতে হতো।
২০২৪ সালের অক্টোবরে মতোয়াল্লা কল্যাণ পরিষদ যখন যমুনা তীরবর্তী এলাকায় 'স্বাবলম্বী মা' জরিপ চালায়, তখন আমরা রহিমাকে একটি নতুন সেলাই মেশিন, ৫ থান কাপড়, কাঁচি ও সেলাইয়ের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম উপহার দিই। এছাড়া তাকে ১৫ দিনের আধুনিক সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
"গত মাসে আমি নিজে ঘরে বসে সাড়ে আট হাজার টাকা আয় করেছি। আমার বড় ছেলে এখন স্কুলে যাচ্ছে। কারো কাছে আমার হাত পাতার প্রয়োজন হয় না।" — রহিমা বেগম।
রহিমাকে দেখে ওই গ্রামের আরও আটজন বিধবা নারী এখন সেলাই শিখছেন। রহিমা তাদের নিজ আগ্রহে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এ পর্যন্ত সারা দেশে ৪৫০টি পরিবারকে এভাবে স্বাবলম্বী করা হয়েছে।
মেশিন বিতরণ সংখ্যা: ১৫০টি সেলাই মেশিন ও ৬০টি ভ্যানগাড়ি বিতরণ সম্পন্ন
পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারী জেলা• 'উষ্ণতার পরশ' উইন্টার রিপোর্ট: ডিসেম্বর ২০২৪ – জানুয়ারি ২০২৫• ৪ মিনিট পড়ার সময়
৫. হিমালয়ের হিমেল বাতাসে উত্তরের শীতার্ত জনপদ: মধ্যরাতে নিঃশব্দে উষ্ণতা বিলানোর ৩ বছর
তেঁতুলিয়া ও পঞ্চগড় অঞ্চলে শীত কেবল একটি ঋতু নয়, এটি অতিদরিদ্র মানুষের জন্য এক নির্মম আতঙ্কের নাম। যখন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে, তখন খড়ের ছাউনি আর পাটের ছালা গায়ে দিয়ে শীত মানানো যায় না। বৃদ্ধ ও শিশুরা নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে কাতরাতে থাকে।
আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা দিনের বেলা গোপনে তালিকা তৈরি করে রাত ১১টা থেকে ভোর ৩টার মধ্যে ঘুমন্ত মানুষের কুটিরে গিয়ে নিজ হাতে কম্বল জড়িয়ে দেন। ২০২৪-২০২৫ মৌসুমে ৩,৮০০টি উন্নতমানের দুই স্তরের ভারী কম্বল এবং ১,২০০ শিশুর মাঝে নতুন গরম সোয়েটার বিতরণ করা হয়েছে।
বিতরণ রেকর্ড: ৩ বছরে মোট ৮,৫০০+ কম্বল ও শীতবস্ত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছে
চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের সীমান্তবর্তী গ্রাম• ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প রিপোর্ট: ফেব্রুয়ারি ২০২৫• ৪ মিনিট পড়ার সময়
৬. দৃষ্টি ফিরল শত প্রবীণের: প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন ক্যাম্পের সাফল্য
গ্রামের অনেক বয়োবৃদ্ধ মানুষ সামান্য ছানি অপারেশনের অভাবে অন্ধ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সার্জনদের সহায়তায় আমরা তিন দিনব্যাপী বিশাল চক্ষু ক্যাম্প পরিচালনা করি। ১,৪৫০ জনের পরীক্ষা করে ৬৫০ জনকে বিনামূল্যে চশমা দেওয়া হয় এবং চরম ছানি ধরা পড়া ২১০ জন প্রবীণ রোগীর আধুনিক হাসপাতালে নিখরচায় লেন্স প্রতিস্থাপন অপারেশন সম্পন্ন করা হয়।
চিকিৎসা সাফল্য: ২১০টি সফল অপারেশন, শূন্য শতাংশ জটিলতা
আমানতের শতভাগ নিরাপত্তা
আর্থিক স্বচ্ছতা, শরীয়াহ যাকাত ও উন্মুক্ত অডিট রিপোর্ট
আপনার কষ্টে উপার্জিত দান একটি পবিত্র আমানত। আমরা নিশ্চিত করি এর প্রতিটি পয়সা যাতে নির্দিষ্ট খাতে যথাযথভাবে পৌঁছায়।
অনুদানের অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়?
সরাসরি মাঠপর্যায়ে সহায়তা বিতরণ (খাদ্য, শিক্ষা, নলকূপ, চিকিৎসা)৮৮%
অনুদানের সিংহভাগ সরাসরি উপকারভোগীদের হাতে চলে যায়।
লজিস্টিকস, মাঠ পরিদর্শন ও মালামাল পরিবহন খরচ৭%
চর ও প্রত্যন্ত দুর্গম এলাকায় ট্রলার, নৌকা ও পরিবহন ব্যয়।
জরুরি দুর্যোগ তহবিল ও রিজার্ভ ফান্ড৫%
আকস্মিক বন্যা বা ঝড়ে তাৎক্ষণিক ত্রাণ পাঠাতে সংরক্ষিত।
০% পরিচালনা ফি (Zero Management Deduction)
আমাদের নির্বাহী কমিটি ও শুভানুধ্যায়ীদের ব্যক্তিগত অর্থে সংগঠনের প্রশাসনিক খরচ নির্বাহ হয়; সাধারণ অনুদান থেকে কোনো বেতন কাটা হয় না।
বার্ষিক ও দ্বিমাসিক অডিট বিবরণী
বার্ষিক আর্থিক অডিট রিপোর্ট ২০২৫
স্বনামধন্য চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস ফার্ম কর্তৃক নিরীক্ষিত
মতোয়াল্লা কল্যাণ পরিষদের যাকাত ফান্ড সম্পূর্ণ পৃথক ব্যাংক হিসাবে সংরক্ষিত হয়। এটি কোনো সাধারণ উন্নয়ন বা প্রচারমূলক কাজে ব্যয় করা হয় না; বরং পবিত্র কোরআনে বর্ণিত ৮টি খাতের মধ্যে শুধুমাত্র চরম অভাবী, মিসকিন ও ঋণগ্রস্ত মানুষের হাতে সরাসরি পৌঁছে দিয়ে তাদের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা হয়।
দান করার সহজ উপায়
একটি ক্লিকেই পৌঁছে দিন আপনার ভালোবাসা ও অনুদান
বিকাশ, নগদ, রকেট অথবা সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে দেশ ও প্রবাস থেকে সহজেই অনুদান পাঠানোর নির্ভরযোগ্য একাউন্টসমূহ।
বিকাশ (bKash)
মার্চেন্ট / পার্সোনাল
যেকোনো পার্সোনাল বা এজেন্ট বিকাশ একাউন্ট থেকে সহজেই সেন্ড মানি বা ক্যাশ-ইন করুন।
বিকাশ পার্সোনাল নম্বর:
01700-000000
• বিকাশ অ্যাপে যান বা dial করুন *247#
• Send Money অপশনে গিয়ে নম্বরটি লিখুন
• রেফারেন্সে লিখুন: MKP
নগদ (Nagad)
পার্সোনাল
নগদের মাধ্যমে নামমাত্র খরচে তাৎক্ষণিক ফান্ড সহায়তা পাঠান।
নগদ পার্সোনাল নম্বর:
01800-000000
• নগদ অ্যাপ থেকে সেন্ড মানি করুন
• ডায়াল করতে পারেন *167#
• রেফারেন্সে আপনার নাম বা জেলার নাম দিন
ব্যাংক একাউন্ট
প্রবাসী ও বড় অংক
সরাসরি দেশ-বিদেশের যেকোনো ব্যাংক থেকে এনপিএসবি/বিইএফটিএন করুন।
হিসাবের নাম:MOTOWALLI KALLYAN PARISHAD
হিসাব নম্বর:2050-XXXX-XXXX-XXXX
ব্যাংক ও শাখা:ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, ঢাকা শাখা
রাউটিং নং:125272654 | সুইফট কোড:IBBLBDDH
অনুদানের তথ্য সাবমিট করুন ও ডিজিটাল রসিদ পান
টাকা পাঠানোর পর ট্রানজেকশন আইডি দিয়ে নিচের ফরমটি পূরণ করলে আমাদের টিম আপনার নামে অফিসিয়াল রসিদ ইস্যু করবে।
ধন্যবাদ! আপনার অনুদানের তথ্য সফলভাবে গৃহীত হয়েছে। যাচাইপূর্বক ডিজিটাল রসিদ পাঠানো হবে।
ক্যামেরায় বন্দী মুহূর্তসমূহ
মাঠপর্যায়ের চিত্রশালা: আর্তমানবতার পদচিহ্ন
বন্যার পানি থেকে শীতের হিমেল রাত—আমাদের নিবেদিতপ্রাণ ভলান্টিয়ারদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কিছু স্থিরচিত্র।
২২ অক্টোবর ২০২৬ • সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
মোতাওয়াল্লী কল্যাণ পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত
সংগঠনের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা
শিক্ষা সহায়তা
চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠশালা
কুড়িগ্রামের দুর্গম চরে বিনামূল্যে খাতা ও বই বিতরণ
ত্রাণ ও খাদ্য
সুনামগঞ্জের হাওরে আকস্মিক বন্যায় ত্রাণ বিতরণ
১৫ দিনের টানা ভাসমান নৌ-ক্যাম্প পরিচালনা
বিশুদ্ধ পানি
উপকূলীয় অঞ্চলে গভীর নলকূপ উদ্বোধনী মুহূর্ত
আর্সেনিক ও লবণমুক্ত সুপেয় পানির স্থায়ী সমাধান
স্বাস্থ্য সুরক্ষা
ফ্রি চক্ষু পরীক্ষা ও ছানি অপারেশন ক্যাম্প
শত প্রবীণের দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়ার মানবিক প্রয়াস
উষ্ণতার পরশ
উত্তরের পঞ্চগড়ে মধ্যরাতে কম্বল বিতরণ
নিঃশব্দে ঘরে ঘরে উষ্ণতা পৌঁছে দেওয়ার দৃশ্য
স্বাবলম্বীকরণ
অসহায় বিধবা মায়েদের হাতে সেলাই মেশিন প্রদান
সম্মানের সাথে আয়ের স্থায়ী পথ উন্মোচন
মানবতার সেবক হোন
আমাদের দেশব্যাপী তরুণ স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্কে যোগ দিন
আপনার অবসর সময়ের কিছুটা সময়, মেধা ও শ্রম হতে পারে কোনো চরের মুমূর্ষু রোগীর প্রাণ বাঁচানোর হাতিয়ার। আমরা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা আঞ্চলিক গোষ্ঠীর জন্য কাজ করি না; বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক আমাদের সাথে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে পারেন।
ফিল্ড ওয়ার্ক ও লিডারশিপ অভিজ্ঞতা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মেডিকেল ক্যাম্প সমন্বয় ও সমাজসেবার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন।
অফিসিয়াল স্বেচ্ছাসেবা সনদপত্র
সক্রিয় কাজের পর প্রশংসাপত্র ও ভলান্টিয়ার সার্টিফিকেট।
স্বেচ্ছাসেবক আবেদন ফরম
নিচের সাধারণ তথ্যগুলো পূরণ করে আমাদের ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত হোন।
ধন্যবাদ! আপনার আবেদনটি গৃহীত হয়েছে। স্থানীয় প্রজেক্টে আপনাকে যুক্ত করতে আমাদের ফিল্ড টিম যোগাযোগ করবে।
মানুষের মুখে ভালোবাসার প্রতিধ্বনি
উপকারভোগী ও সুধীজনদের আন্তরিক অনুভূতি
"বন্যার সময় যখন সব রাস্তাঘাট পানির নিচে, তখন এই ছেলেরা যেভাবে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কলাগাছের ভেলা আর নৌকায় করে আমাদের ঘরে চাল-ডাল পৌঁছে দিয়েছিল, তা কোনোদিন ভুলব না।"
ম
মো. আব্দুল মান্নান
চর বাসিন্দা, তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ
"আমি কুয়েতে থাকি। দেশের জন্য কিছু করার ইচ্ছা থাকলেও বিশ্বাসের অভাবে টাকা দিতে পারতাম না। মতোয়াল্লা কল্যাণ পরিষদের প্রতিটি কাজের ছবি, রসিদ ও স্বচ্ছ হিসাব দেখে আমি প্রতি বছর আমার যাকাতের অর্থ এদের তহবিলে দিই।"
ক
কামরুল হাসান চৌধুরী
প্রবাসী ব্যবসায়ী, কুয়েত
"আমাদের স্কুলের প্রায় ৪০ জন এতিম শিক্ষার্থীর বই-খাতা ও পোশাকের ব্যবস্থা করেছে পরিষদ। তাদের এই নিঃস্বার্থ সহায়তার কারণেই অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে শিশুশ্রমে যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে।"
ন
নজরুল ইসলাম
প্রধান শিক্ষক, উলিপুর চিলড্রেন একাডেমি
সচরাচর প্রশ্ন ও উত্তর
আপনার মনের যত জিজ্ঞাসা
আমাদের পরিচালনা, অরাজনৈতিক অবস্থান ও সেবা সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর।
না, একদমই নয়। মতোয়াল্লী কল্যাণ পরিষদ একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, অলাভজনক এবং নিরপেক্ষ মানবিক সামাজিক সংস্থা। আমাদের সংবিধানে কঠোরভাবে উল্লেখ রয়েছে—কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব এই সংগঠনে গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের একমাত্র পরিচয় আমরা আর্তমানবতার সেবক।
হ্যাঁ, আলহামদুলিল্লাহ। যাকাতের তহবিলের জন্য আমাদের পৃথক ব্যাংক হিসাব রয়েছে। এই অর্থ কোনো প্রশাসনিক ব্যয়, সংগঠনের অফিস খরচ বা প্রচারণায় ব্যয় করা হয় না। শুধুমাত্র পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হকদার ব্যক্তিদের হাতে সরাসরি নগদ অর্থ বা স্বাবলম্বীকরণ সামগ্রী হিসেবে মালিকানাস্বত্ব হস্তান্তরের মাধ্যমে যাকাত আদায় নিশ্চিত করা হয়।
হ্যাঁ, প্রবাসী ভাই-বোনেরা সরাসরি আমাদের ব্যাংকের সুইফট কোড (SWIFT Code: IBBLBDDH) ব্যবহার করে রেমিট্যান্স আকারে বা ব্যাংক একাউন্টে ট্রান্সফার করতে পারেন।
অবশ্যই। কোনো দাতা যদি এককভাবে কোনো গভীর নলকূপ বা এতিম শিশুর পড়াশোনার খরচ স্পন্সর করতে চান, তবে আমরা সেই টিউবওয়েলে দাতার ইচ্ছানুযায়ী নামফলক স্থাপন করি এবং কাজের ভিডিও ও ছবি সরাসরি দাতার ঠিকানায় প্রেরণ করি।
আমরা দাতাদের সবসময় স্বাগত জানাই। আপনি চাইলে আমাদের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাথে সশরীরে চরাঞ্চলে ত্রাণ বিতরণ বা মেডিকেল ক্যাম্প পরিদর্শন করতে পারেন এবং নিজ হাতে মানুষের মাঝে সামগ্রী তুলে দিতে পারেন।
যোগাযোগ ও দপ্তর
সরাসরি আমাদের সাথে কথা বলুন
যেকোনো তথ্য, অনুদান বিষয়ক অনুসন্ধান বা আপনার গ্রামে জরুরি সেবার আবেদনের জন্য আমাদের হটলাইন অথবা অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।
কেন্দ্রীয় প্রধান কার্যালয়:
হাউজ #১২, রোড #০৫, ধানমন্ডি / মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।